কমিউনিটি রেডিও’র সম্ভাবনা : প্রেক্ষিত চট্টগ্রাম
মোঃ আরিফুর রহমান
প্রধান নির্বাহী, ইপসা
ভূমিকা-
বর্তমান যুগ তথ্যের যুগ। বর্তমানে তথ্যই হলো শক্তি। তথ্য প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তির ফলে সৃষ্টি হয়েছে তথ্য ধনী (Info-rich) এবং তথ্য গরীব (Info-poor)। তথ্যের উপর উন্নত বিশ্বের দখল এবং নিয়ন্ত্রণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে সাম্রাজ্যবাদের নতুন রূপ, তথ্য সাম্রাজ্যবাদ। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত গণমাধ্যম ব্যাবস্থার পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চলে কমিউনিটিরেডিও স¤প্রচারের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
মূলত দারিদ্র দূরীকরণ এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত করা তথা উন্নয়নের লক্ষ্যে খনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন করার উদেশ্যকে সামনে রেখে ১৯৪৭ সালে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় ‘মাইনার্স রেডিও’ নামে বিশ্বের প্রথম সফল কমিউনিটি রেডিও’র অভিযাত্রা শুরু হয়। সে অভিযাত্রা ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে যোগাযোগের একটি বিকল্প এবং অন্যতম মাধ্যম হিসেবে।
কমিউনিটি রেডিও কি এবং কেন-
মূলত সুনির্দিষ্ট একটি ভৌগলিক পরিসীমায় কেবলমাত্র তৃণমূল স্তরের জনগোষ্ঠীর সমস্যা এবং সম্ভাবনা বিষয়ক অলাভজনক ও সেবামূলক প্রচার এবং শ্রোতা সাধারণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিমুখী তথ্য স¤প্রচারই কমিউনিটি রেডিও’র মৌল দর্শন।
নির্ধারিত অনুষ্ঠান সংগঠক তথা অন্যের দ্বারা তৈরীকৃত রেডিও’র অনুষ্ঠানাদি, তথ্য অধিকার বঞ্চিত সাধারণ লোকের নিজের প্রয়োজনকে অস্বীকার করার অনুযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং উন্নয়ন বঞ্চিত ভূক্তভোগী সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকারে কমিউনিটি রেডিও’র উদ্ভব। কমিউনিটি রেডিও’র ধারণায় নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার মানুষের সমস্যা সমূহের উপর অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার, তথ্য সংগ্রহ, সমন্বয় ও স¤প্রচারে বেতার কলাকুশলীদের সাথে সাধারণ মানুষ এবং গোষ্ঠী প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণে স্থানীয় সমস্যা নির্ধারণ, সমাধানের পথ অন্বেষণে, নানা ধরণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয় কল্যাণ নিশ্চিতকরণের সুবিধা থাকায় বিশ্বব্যাপি কমিউনিটি রেডিও’র ধারণার গুরুত্ত¡ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শহরে কেন্দ্রীভূত রেডিও স¤প্রচার ব্যবস্থা থেকে দূরে অবস্থান করায় গ্রামীণ মানুষ তথ্য প্রাপ্তি হতে দূরে থাকে। অনুষ্ঠানমালায় শহরের প্রাধান্য প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে তথ্য থেকে আরো দূরে নিয়ে তথ্য বঞ্চিত করে তোলে। তাই বিশ্বব্যাপি স¤প্রচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের দাবী জোরদার হয়েছে এবং স্থানীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠানমালা তৈরী ও প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গৃহিত হয়। এটিও কমিউনিটি রেডিও’র জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ। নির্দিষ্ট একটি এলাকার বা অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠী দ্বারা স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত কমিউনিটি রেডিওতে অনুষ্ঠান তৈরীসহ প্রচারের সমস্ত কার্যক্রমে কমিউনিটির লোকের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় তারা এলাকার যাবতীয় সমস্যা নির্ধারণ করে এবং কিভাবে এসব সমস্যার যথাযথ সমাধান বের করা সম্ভব তা তুলে ধরতে পারে।
এভাবে কমিউনিটি রেডিও এলাকার বা অঞ্চলের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমানে কমিউনিটি রেডিও’র বিস্তার ইটালি, কানাডা সহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ছাড়িয়ে নেপাল, শ্রীলংকা, ফিলিপাইনসহ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নকামী দেশে স্থানীয় উন্নয়নের একটি বিশেষ চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সমীক্ষার তথ্য-
বাংলাদেশ একটি গ্রাম প্রধান দেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষ বাস করে গ্রামে । নিরক্ষরতা, বিদ্যুতের অভাব, এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অভাবের কারণে আমাদের দেশের মানুষ প্রতিনিয়ত তথ্য প্রাপ্তি হতে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ সংবাদ মাধ্যম হিসেবে রেডিও ব্যবহার করে বেশী। জাতীয় ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ি দেশের শতকরা ৩৫ ভাগ ঘরে বেতার শ্রোতা রয়েছে। দেশের শতকরা ৩৯ ভাগ মানুষ বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার নিয়মিত শ্রোতা। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সমীক্ষায় ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা বেতারকে তাদের জন্য শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মূলত এটি সর্বজনস্বীকৃত যে রেডিও বাংলাদেশের মানুষের গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং সাধারণের নিত্য ব্যবহার্য্য মাধ্যম রূপে পরিগণিত হচ্ছে। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদেও ধারণা, বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও এক সম্ভাবনাময় গণমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চট্টগ্রামের দুটি ভিন্ন অঞ্চলের (মীরসরাই এবং আনোয়ারা) দুটি গ্রামের উপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় (তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন ও কমিউনিটি রেডিও’র সম্ভাবনা: মোহাম্মদ আলী এবং সুব্রত চৌধূরী) দেখা গেছে যে, শতকরা ৪২ ভাগ মানুষ মনে করে বর্তমানের প্রচলিত সরকারি বেতার স¤প্রচার
অনুষ্ঠান শ্রোতাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না । কমিউনিটি রেডিও’র ধারণা দেয়ার পর দেখা গেছে যে অধিকাংশ উত্তরদাতা (৯৬%) দেশের বর্তমান বেতার সমপ্রচারের পাশাপাশি কমিউনিটি রেডিও প্রতিষ্ঠার ব্যপারে আগ্রহী। কমিউনিটি রেডিও প্রতিষ্ঠিত হলে এর সমপ্রচার ব্যবস্থার বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করবেন বলে মত দিয়েছেন ৯৪% উত্তরদাতা এবং উত্তরদাতাদের ৯৭% মনে করেন কমিউনিটি রেডিও তৃণমূল অঞ্চলের উন্নয়নে একটি গুরুত্ত¡পূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে পরিগণিত হবে।
চট্টগ্রামে কমিউনিটি রেডিও’র সম্ভাবনা-
পাহাড় এবং সমুদ্র বেষ্টিত বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে এবং তথ্য বঞ্চিত মানুষের তথ্য প্রাপ্তিতে কমিউনিটি রেডিও নি:সন্দেহে একটি গুরুত্ত¡পূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংস্কৃতি, ভাষার মানুষের এক বৈচিত্রময় সম্মিলন ঘটেছে বৃহত্তর চট্টগ্রামে। এখানে কমিউনিটি রেডিও সকল গোষ্ঠী, সংস্কৃতি, ভাষার মানুষের মধ্যে তথ্যের আদান প্রদানের মাধ্যমে এক সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারে। অত্র এলাকার আঞ্চলিক এবং সামাজিক পরিবেশে জনসাধারণকে অর্ন্তভূক্ত করে কমিউনিটি রেডিও দারিদ্র বিমোচনে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে। কমিউনিটি রেডিও অত্র অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি সকল ক্ষেত্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মাঝে কমিউনিটি রেডিও এক সেতু বন্ধন হয়ে কাজ করতে পারে। এর সাহায্যে এক সংস্কৃতির মানুষ সম্পর্কে অন্য সংস্কৃতির মানুষকে জানাতে পারে। এর ফলে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ম ও স¤প্রীতি বৃদ্ধি পেতে পারে। চট্টগ্রাম নানা ধরণের মেীসুমী ফসল উৎপাদনে এক উপযোগী অঞ্চল। কৃষির উন্নয়নে কমিউনিটি রেডিও খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের কৃষকরা ফলন বৃদ্ধির জন্য কি করা যায় সে সম্পর্কে তারা তথ্য আদান প্রদান করতে পারে।
এছাড়া স্থানীয় এলাকার উন্নয়নে শিক্ষিত, অশিক্ষিত জনগোষ্ঠিকে নিজস্ব এলাকার সমস্যা উন্মোচন এবং তা উপযোগী সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধকরণ এবং স্বিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও কমিউনিটি রেডিও খবই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এটি অনস্বীকার্য যে কমিউনিটি রেডিও দেশের উন্নয়ন বিষয়ক তথ্য পরিবেশন এবং জনকল্যাণ এবং উন্নয়নমুখী কার্যক্রমে জনগণের স্বতস্ফ’র্ত অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্তপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সুতরাং এটি বলা যায়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলসমূহ যথা- পি.আর.এস.পি, এম.ডি.জি. লক্ষ্য অর্জনে কমিউনিটি রেডিও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য-
সমুদ্র বন্দরের অবস্থান এবং সমুদ্র উপকূল দ্বারা বেষ্টিত বলে এখানে বিভিন্ন দেশের মানুষের আসা-যাওয়া একটি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। তাই অত্র অঞ্চল এইডস সহ বিভিন্ন রোগ বিস্তারের ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কমিউনিটি রেডিও এক্ষেত্রে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিয়মিত তথ্য স¤প্রচার করতে পারে। এছাড়া গ্রামীণ জনসাধাণের মাঝে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, রোগ-ব্যাধি প্রভৃতি ব্যপারে তথ্য প্রচারে কমিউনিটি রেডিও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাষা ও শিক্ষা-
এছাড়া চট্টগ্রামে স্বাক্ষরতা হার এবং সাধুভাষায় কথা বলার প্রচলন কম। তারা চলতি ভাষায় কথা বলতে এবং শুনতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সবচেয়ে বেশি। কমিউনিটি রেডিও যেহেতু for the people by the people তাই এটি অত্র এলাকার মানুষের মাঝে সহজে শিক্ষা বি¯তারে গুরুত্ত¡পূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এতে জাতীয় উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের মেধার বিকাশ ঘটবে।
কমিউনিটি রেডিও’র মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের দ্বারা দেশের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন, তাদের চিন্তা, চেতনা ও সম্ভাবনাকে তুলে এনে জাতীয় চেতনা সাথে মেলবন্ধনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ-
সমুদ্র উপকুলীয় এলাকায় অবস্থিত বলে প্রায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, বাশঁখালী, ফেনী, নোয়াখালি, কক্সবাজার, সন্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, মহেষখালি প্রভৃতি অঞ্চলসহ ছোট ছোট দ্বীপাঞ্চল গুলো প্রায় জলোচ্ছাস এবং ঘূণিঝড় সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ভূমিকম্প এই অঞ্চলের জন্য একটি মারাত্মক আতংক। এই সকল দুর্যোগ এর পূর্ব এবং পরবতী সময়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এবং জনগণের জানমাল রক্ষার্থে এবং প্রয়োজনয়ি প্রস্তুতি গ্রহণে কমিউনিটি রেডিও খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। উপক’লীয় অঞ্চলের সামাজিক বৈষম্য এবং অনাচার নিরসন করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং আইনগত বিষয়াদি প্রচার করে পশ্চাদপদ মানুষকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং অধিকার আদায়ে প্রয়োজনয়ি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে পারবে।
আদি বাসী এবং ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী-
চট্টগ্রামের বিশাল পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে রয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাদের রয়েছে বৈচিত্রময় সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং জীবন যাত্রা। শিক্ষার নিম্ম হার এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অভাবের কারণে তারা প্রতিনিয়ত তথ্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নয়নে কমিউনিটি রেডিও গুরুত্ত¡পূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বায়নের ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি আজ হুমকীর সম্মুখীন। বিভিন্ন উন্নয়ন এবং গণমাধ্যম সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে গণমাধ্যমের শ্রোতা/দর্শকরা ক্রমশ:নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে তৈরীকৃত অনুষ্ঠানমালা শুনতেই বেশি আগ্রহী। চট্টগ্রামে রয়েছে এই ধরণের অসংখ্য ক্ষুদ্র ভাষাভাষি গোষ্ঠী এবং জাতিসত্ত¡া। যেমন-ক্ষুদ্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, জেলে স¤প্রদায় ইত্যাদি। এরা খুবই অবহেলিত । তথ্যের অভাবের কারণে এরা প্রতিনিয়ত গতিশীল সমাজ হতে পিছিয়ে পড়ছে। কমিউনিটি রেডিও এদেরকে সমাজের মূল স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করতে পারে।
বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ইপসা’র উদ্যোগ-
বাংলাদেশ সরকার কমিউনিটি রেডিও’র লাইসেন্স এখনও পর্যন্ত চালু করেনি। সরকার যখন লাইসেন্স দেয়া শুরু করবে তখন হতে ইপসা চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, পরিচালনা ও অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নে ইপসা কাজ শুরু করবে। কমিউনিটি রেডিও এর ধারণা মোতাবেক ইপসা নিজে কোনো কমিউনিটি রেডিও না করে কমিউনিটির অংশগ্রহণ ভিত্তিক উদ্যোগের সাথে ইপসা সামিল হবে। তবে ইপসা লাইসেন্স এর অপেক্ষায় বসে নেই।
বর্তমানে ইপসা কমিউনিটি রেডিও ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক প্রস্তুতিমূলক কাজ করে যাচ্ছে। ইপসা সচেতনায়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কমিউনিটি রেডিও পরিচালনার জন্য জনগোষ্ঠীকে প্রস্তুত করছে। বিশেষ করে আইসিটি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, স্থানীয় তথ্য সহযোগে সংবাদ তৈরী (কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট), গবেষণা পরিচালনা, ধারাবাহিক সচেতনায়ন, নেতৃত্ব উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় উল্লেখযোগ্য। ইপসা বিশেষ করে বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও প্রসারে সরকারের সাথে এডভোকেসি করার পাশাপাশি লক্ষ্যভূক্ত জনগোষ্ঠীকে পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে ও স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সহায়ক পরিবেশ তৈরী করতে কাজ করার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
তবে ইপসা মনে করে, সরকারি লাইসেন্স না দেয়ার কারণে প্রান্তিক মানুষের কথা জনগণের সামনে তুলে আনার উদ্যোগটাতো থেমে থাকতে পারে না। সেজন্য ইপসা কমিউনিটি মাল্টিমিডিয়া’র মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের কথা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরছে। এর জন্য ইপসা প্রথমে স্থানীয় তরুণদের আইটি’র বিভিন্ন মাধ্যমের ব্যবহার, ্এগুলোর দ্বারা চিত্র ধারণ, চিত্র উপস্থাপন প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এরপর প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মাধ্যমে তৈরী স্থানীয় সমস্যার উপর ভিত্তি করে তৈরী টকশো, চিত্রায়িত ডকুমেন্টরিগুলো স্থানীয় লোকালয় কিংবা স্যাটেলাইট টিভি’র মাধ্যমে প্রদর্শন করে তথ্য প্রচার করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য স¤প্রচার করা হয়।
কমিউনিটি রেডিও’র ধারণার পাশাপাশি ইপসা সিটিবেন্ড রেডিও নিয়েও কার্যক্রম পরিচালিত করছে। সিটি ব্যান্ড রেডিও যোগাযোগে আরেকটি কাযৃকরী মাধ্যম। এটি দুর্যোগকালীন সময়ে যোগাযোগের একটি কার্যকরী মাধ্যম। যেমন-দুর্যোগের সময় দুটি স্থানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য দুই অঞ্চলে দুটি সিটিব্যান্ড রেডিও স্থাপন করে সহজে যোগাযোগ ও তথ্য প্রচার করা যায়। ইপসা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিটিব্যান্ড রেডিও ব্যবহারের উপযোগিতা এবং এর ব্যবহারের নিয়মাবলী
সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে।
তথ্য সূত্র-
১. ইয়থ লেড প্রভার্টি রিডাকশন থ্র ডিজিটাল অপরচুনিটি, ইপসা
২. তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন এবং কমিউনিটি রেডিও’র সম্ভাবনা সমীক্ষা (মোহাম্মদ আলী ও সুব্রত চৌধুরী)
৩. কমিউনিটি রেডিও কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়-ইউনেস্কো
৪. সোশ্যাল এ্যকশন, ইপসা
৫. উপক’লীয় জীবন ও বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও’র সম্ভাবনা- সহিদ উল্ল্যাহ লিপন
