Bengali versionFrench versionGerman versionJapanese versionNatherland  versionEnglish version

ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশান (ইপসা)

ভূমিকা 

পৃথিবীর জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে যুব সমাজ। এই সম্ভাবনাময় যুব সমাজ সম্পর্কে পৃথিবীর সকল সত্দরের জনগণকে সচেতন করা ও উন্নয়ন কর্মসূচীতে যুব সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর পরিষদের ৩৩/৭ নং সিদ্ধানত্দের মাধ্যমে ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯০ সালকে "যুব দশক" ও ১৯৮৫ সালকে "আন্তর্জাতিক যুব বর্ষ" ঘোষনা করে। 
উন্নয়ন কর্মসূচীতে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক প্রচারনার ব্যবস্থা নেয়া হয়। যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন যুব সংগঠন সৃষ্টি ও বিভিন্ন যুব কার্যক্রম বান্তবায়িত হতে থাকে। এমনি প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার কয়েকজন সমাজ সচেতন যুবক একটি উন্নয়ন সংগঠন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এলাকার যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করে। আর এভাবেই "১৯৮৫ সালের ২০ মে"সচেতন যুবকদের সক্রিয় উদ্যোগে সমাজ উন্নয়ন সংগঠন "ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)'র উন্নয়ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের পদযাত্রা শুরু হয়। 

আইনী ভিত্তি

ইপসা সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন বিভাগ যেমন,এনজিও বিষয়ক ব্যুরো,সমাজ কল্যাণ বিভাগ,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর,স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ,কপিরাইট অফিস,জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানী এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটী কতৃক নিবন্ধীকৃত একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

ভিশন

এমন একটি দারিদ্রমুক্ত সমাজ যেখানে সকলের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। 

মিশন

ইপসা'র অস্থিত্ব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও তাদের সমাজের টেকসই পরিবর্তন আনয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে অংশগ্রহণ করা। 

সংস্থার মূল্যবোধ

ইপসার প্রত্যেক সদস্য,কর্মী,ভলান্টিয়ার এবং পরিচালনা পর্ষদ সংস্থার নিম্নবর্ণিত বিশ্বাস ও মূল্যবোধ মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: 
দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় গৌরবের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা: 
দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। সর্বক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় গৌরব কে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এর চর্চা ও উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। 

ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা: 
আমরা বিশ্বাস করি,সমাজের ধণী,দরিদ্র,আদিবাসী,ক্ষুদ্রপেশাজীবী শ্রেণী,প্রতিবন্ধী এবং বয়স ভেদে কোন মানুষের মধ্যেই কোন ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়,এবং সকলেই সমান ভাবে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। প্রাথমিক ষ্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কর্মকান্ডের কার্যকারীতা সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা থাকবে এবং যোগাযোগ ও বিবেচনার ক্ষেত্র থাকবে উন্মুক্ত। 

পারষ্পরিক শ্রদ্ধা এবং জেন্ডার বান্ধব মনোভাব সম্পন্নতা : 
আমরা প্রত্যেক মানুষের স্বতন্ত্র সৃষ্টিশীলতা ও সমঅধিকারে বিশ্বাসী। মানুষ এবং তার পরিবেশ উভয়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি পারষপরিক শ্রদ্ধাবোধ সত্যিকারের অংশগ্রহণ,ক্ষমতায়ন,উদ্বুদ্ধতা এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নিশ্চিত করে। ইপসার সাংগঠনিক পরিবেশ হবে শ্রদ্ধাবোধ ও জেন্ডার সমতার ভিত্তিতে যেখানে প্রত্যেকে নারী বা পুরুষ হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। নারী ও বালিকাদের অধিকার সংরক্ষনে প্রয়োজনে তাদেরকে আলাদা ভাবে বিবেচনা করা হবে। 

মান সম্পন্নতা এবং উৎকর্ষতা : 
আমাদের আচরণ ও কার্যক্রমের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার জন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সংগঠন ও কাজে প্রতিনিয়ত নতুনত্ব ও সংষ্কার আনয়ন। আমরা বিশ্বাস করি ব্যর্থতার ভয় কাটিয়ে আমাদের অবিরাম সৃষ্টিশীলতা ও নতুনত্বের অন্বেষন করা উচিত। গুনগত মান ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য আমাদের অবশ্যই স্বচ্ছ,জবাবদিহি,সময়োচিত,ব্যয়সাশ্রয়ী হতে হবে এবং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কাজ করতে হবে। 

বিনম্রতা এবং আত্মবিশ্বাস : 
প্রাথমিক ষ্টেকহোল্ডার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি বিনয়ের ব্যাপারে আমরা সবসময় সচেতন থাকব। সমাজ ,মতানৈক্য এবং সৃষ্টিশীলতার প্রতি আমরা সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকব। প্রত্যেক মানুষই স্বতন্ত্র গুনাবলী দ্বারা আমাদের কাছে অনন্য ও শ্রদ্ধাভাজন। অভিজ্ঞতা,গুনাবলী এবং অংগীকারের উপর ভিত্তি করে আমরা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষাবলম্বনে আত্নবিশ্বাসী হব। 

বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ : 
আমরা বিশ্বাস করি বৈচিত্রতা/ভিন্নতা হচ্ছে প্রত্যেক সমাজের সহজাত বৈশিষ্ট্য যা সৃষ্টিশীলতার দ্বার উন্মুক্ত করে। ঐক্য সৃষ্টির জন্য আমরা বৈচিত্রতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। 

পরিবেশ এবং প্রতিবেশের প্রতি সহমর্মিতা : 
আমরা বিশ্বাস করি নিরাপদ ও স্বাস্ব্যসম্মত জীবন যাপনের জন্য সুস্থ পরিবেশ এবং বাস্তুুবিদ্যা অবিচ্ছেদ্দ্য। পরিবেশ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা ও উন্নয়নে এবং এর ক্ষতি সাধন করতে পারে এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইপসা সর্বদা সক্রিয় থাকবে। 

সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য

ইপসার ভিশন,মিশন এবং মূল্যবোধকে লৰিত পথে পরিচালিত করার জন্য কিছূ বৈশিষ্ট্য সাংগঠনিক কৃষ্টি/কালচার হিসাবে অনুমদিত হয়েছে। সংস্থার সকল কর্মী সদস্য,স্বেচ্ছাসেবী এবং ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সকলে মিলে এই লক্ষ অর্জনে 
সচেষ্ট থাকব। সংস্থার কিছু উলেস্নখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল: 

পারিবারিক পরিবেশ : 
আমরা আমাদের কর্মী সদস্য,স্বেচ্ছাসেবী ,ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সর্বোপরি সকলের জন্য সংস্থায় পারিবারিক বন্দ্ধুভাবাপন্ন্ পরিবেশ বজায় রাখব। পারষ্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমস্যা সমাধানের জন্য সচেষ্ট থাকব এবং ৰেত্র বিশেষে পরষ্পরের সুন্দর আনন্দময় সময়গুলো একসাথে উপভোগ করব। 

দায়িত্ব সচেতনতা: 
সংস্থার অভ্যন্তরে ও বাহিরে প্রতিটি ৰেত্রে আমরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিব এবং ছোট বড় অর্থাৎ প্রাথমিক ষ্টেকহোল্ডার,পিতা মাতা,দাতা সংস্থা এবং সরকার প্রতিটি ৰেত্রে আমাদের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা থাকবে। সংস্থায় আমরা একে অপরকে 
দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সহযোগীতা করব। 

ব্যয়সাশ্রয় নীতি: 
সংস্থার আভ্যন্তরীন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমরা সাশ্রয়ী হব যেন অধিকাংশ অর্থ সরাসরি প্রকল্পের কাজে ব্যয় করতে পারি। প্রকল্পের কার্যক্রম বান্তবায়নের ৰেত্রে আমরা সীমিত সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে লক্ষিত জনগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা করব। এই প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে দাতা সংস্থার উপর আমাদের নির্ভরশীলতা হ্রাস করবে এবং দরিদ্র ও প্রানত্দিক জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রায় স্থায়ী পরিবর্তন আনয়নে সহায়তা করবে। 

গঠনমূলক সমালোচনা ও সংস্থার পরিচিতি প্রসার: 
দারিদ্র এবং প্রনত্দিকতা নিরসনে র্সবৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বনে ইপসা সংস্থা ও সদস্যদের অবস্থান ও দর্শন এবং কর্মকৌশল সকল ৰেত্রে গঠনমুলক সমালোচনাকে উৎসাহিত করবে। প্রতিটি কার্যক্রমে সংস্থার পরিচিতি প্রসারের জন্য সকল সদস্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন এবং পাশাপাশি সংস্থার কার্যক্রমের বিশ্লেষনাত্বক সমালোচনা করবেন। 

বিভিন্ন জাতি ধর্ম ও বর্ণ'র সাম্য ও সমপ্রীতি: 
সময়ের পরিক্রমায় আমরা সংস্থায় বিভিন্ন জাতি ,ধর্ম,বর্ণ (বিভিন্ন পেশাজিবী) নির্বিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। সকলের মতাদর্শ সন্মান ও গুরম্নত্বের সাথে বিবেচিত হয়। 
ইপসা এই কৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচার ও প্রসারিত করতে সৰম হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও ব্যাপ্তি লাভ করবে। 

সুস্থ বিনোদন: 
সূচনা লগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন সত্দরে ইপসা সুস্থ বিনোদন কে উৎসাহিত করে আসছে। সমাজে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং জনজীবনকে প্রভাবিতকারী বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যা গুলো তুলে ধরার জন্য কার্যক্রম সমূহ আমরা পুনরায় গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। এই পদৰেপ কিশোর কিশোরী এবং যুব সমাজ কে সমাজের নেতিবাচক ও ক্ষতিকারক 
কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করবে। 

ব্যবস্থাপনা

ইপসা 'র গঠনতন্ত্র / সংবিধান মোতাবেক গভর্নেন্স কার্যক্রম পরিচালিত হয় মূলত: ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট সাধারণ পরিষদ ৭ সদস্য বিশিষ্ট 
কার্যকরী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অনুমোদিত পলিসি/ গাইডলাইন সমূহের মাধ্যমে। সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী সাধারন পরিষদ সর্বোচ্চ ৰমতার অধিকারী এবং সাংগঠনিক নীতিমালা প্রণয়ন ও কর্মকৌশল নির্ধারনে 
সাধারণ পরিষদের পাশাপাশি কার্যকরী পরিষদ দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। 
কার্যকরী পরিষদ সাধারনত দুই বছরের জন্য কার্যকরী কমিটি নির্বাচিত করে। কার্যকরী কমিটি প্রতি বছরে একবার সাধারণ পরিষদের সদস্যদের সাথে বাৎসরিক সাধারন সভায় মিলিত হয় । বছরে ছয়বার নিয়মিত ভাবে কার্যকরী পরিষদের সভা অনূষ্ঠিত হয় এবং উক্ত কমিটি প্রতি ছয় মাসে একবার উচ্চতর পর্যায়ের কর্মীদের সাথে সমন্বয় সভা করে থাকে। 

কার্যকরী পরিষদের প্রতিনিধি হিসাবে সাধারন সম্পাদক সংগঠনের সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা,কর্মকৌশল,প্রতিবেদন কার্যকরী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করেন এবং সংস্থার দীর্ঘস্থায়ীত্বের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের বাস্তবায়নে অনুমোদন ও সুপারিশ করে থাকেন। সংস্থার নিন্ম পর্যায় থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কার্যকরী পরিষদ এই সব নীতিমালা,কর্মকৌশল,প্রতিবেদন ও পরিকল্পনা অনুমোদন করে থাকেন। সংস্থায় প্রধান নির্বাহী সংগঠনের নীতিমালাও পরিকল্পনা বাসত্দবায়নের মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করেন। 

সংস্থার গঠনতন্ত্র: 

গঠনতন্ত্র / সংবিধান মোতাবেক ৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ,৫৭ সদস্য বিশিষ্ট সাধারণ পরিষদ,উপদেষ্টা পরিষদ,সার্বৰণিক এবং পার্টটাইম ষ্টাফ,স্থানীয়-আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার/স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে ইপসা বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত করে থাকে। শিৰক,ব্যবসায়ী,উন্নয়ন কর্মী,সাংবাদিক,গবেষক ইত্যাদি বিভিন্ন পেশাজীবিদের সমন্বয়ে সংস্থা'র সাধারণ পরিষদ,কার্যকরী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত। কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সংস্থার প্রধান নির্বাহী সংগঠনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করেন। 
গঠনতন্ত্র / সংবিধান মোতাবেক সংস্থার অনুমোদিত বিভিন্ন পলিসি/ গাইডলাইন সমূহের মাধ্যমে ইপসা পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কর্মকান্ডে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লৰে সংস্থা কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-ছাত্রদের জন্য ডেভেলপমেন্ট ইন্টার্নশীপ,প্রকল্প/বিষয়/এলাকা ভিত্তিক ভলান্টিয়ার/নির্দিষ্ট সময় এবং বিষয় ভিত্তিক চেন্জমেকার তৈরী ইত্যাদি। 

সংস্থার অরগানোগ্রাম অনুযায়ী,প্রধান নির্বাহীর পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছেন ৪ জন পরিচালক-পরিচালক ফিল্ড অপারেশন/সমাজ উন্নয়ন বিভাগ,পরিচালক অর্থ বিভাগ,পরিচালক মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিভাগ এবং পরিচালক মাইক্রো ফিন্যান্স ও এন্টারপ্রাইজ/অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগ। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক,কর্মকতা এবং ইউনিট প্রধানরা প্রকল্পের কার্যক্রম বাসত্দবায়ন ও নির্ধারিত পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। সংস্থার ব্যয় নিয়ন্ত্রন ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য 
ইন্টারনাল অডিট টীম নিয়মিত কর্মসূচী পরিদর্শন করে প্রধান নির্বাহীর কাছে প্রতিবেদন প্রেরন করেন। 

সংস্থার পরিচিতি: 

দারিদ্র,ঝুঁকি,প্রান্তিকতা এবং এর মূল কারণ গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরী হওয়া ইপসা'র ভিশন,মিশন ও মূল্যবোধের আলোকে সংস্থা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। 
ইপসা নিজেকে একটি আত্ন:নির্ভরশীল কিন্তু প্রকৃত বাংলাদেশী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা হিসাবে বিবেচনা করে যা দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশগুলোতে (বিশেষ করে চট্টগ্রাম,পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চল) কাজ করে। বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র দূরীকরনের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি সহকারে ইপসা দেশের মানূষের সত্যিকারের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিতে নিজের জায়গা করে নিবে। নিজের ও অন্যান্য সহায়ক সংগঠনের শক্তির উপর নির্ভর করে ইপসা বৈশ্বিক দারিদ্র ও প্রান্তিকতা দূরীকরণ প্রক্রিয়ার একটি সক্রিয় অংশ হিসাবে নিজের অবস্থান করে নেবে। 

মূল্যবোধের বিবেচনায় ইপসা নিজেকে একটি রাজনৈতিকদল নিরপেক্ষ সংগঠন রুপে পরিগনিত করতে চায় অর্থাত ইপসা কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন করবে না বা কোন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচারে অংশগ্রহণ করবে না। এই বিবেচনায় নিরপেক্ষতা বলতে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা বুঝায় না,বরং এটি দ্বারা সংযত এবং ইপসা কতৃক মনোনিত ইস্যুর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বোঝায় যা দারিদ্র দূরীকরণ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয়। এখানে উল্লেখ্য যে "রাজনীতি" বলতে ইপসা সম্পদের সুষ্ঠু বন্টনকে নির্দেশ করে। 

দারিদ্র দূরীকরন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে ইপসা একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসাবে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট থাকবে। পাশাপাশি ইপসার লৰ্য হল উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে সমগ্র বাংলাদেশে সক্রিয় যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখা। 

সংগঠনের ভূমিকা

ইপসা প্রধানত অধিকার সংরক্ষণ ও দারিদ্র দূরীকরনে সক্রিয় সহযোগীর ভূমিকা পালন করে থাকে। সহযোগীর ভুমিকা পালন করতে গিয়ে ইপসা লক্ষ্য করেছে এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সমাজের দরিদ্র,প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ নারী, পুরুষ, ছেলে, মেয়ে এবং তাদের জনগোষ্ঠী। হৃতদরিদ্র ,প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ নারী, পুরুষ, ছেলে, মেয়ে ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর দারিদ্র নিরসনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ইপসা এই প্রক্রিয়ায় কখনো প্রত্যক্ষ এবং কখনো পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ কথার মাধ্যমে প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করাকে বোঝায় না বরং যাদের জন্য কাজ করা হচ্ছে তাদের নির্দেশিত লক্ষ্যের দিকে কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াকে বোঝায়। 
এখানে সহযোগীর ভুমিকা বলতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাসত্দবায়ন প্রক্রিয়ায় ইপসার সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা বোঝায় না।

প্রকৃত প্রয়োজনানুযায়ী ইপসা সক্রিয় বাস্তবায়নকারীর ভূমিকা ও পালন করবে কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগীতা প্রদান করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সহযোগীর ভূমিকা কে উদ্বুদ্ধ করাই হবে এ প্রক্রিয়ার প্রধান লক্ষ্য। 

পাবলিক পলিসি, দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রচলিত রীতিনীতি পরিবর্তনে ইপসা সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে কাজ করে। প্রান্তিকতা এবং দারিদ্র নিরসনে সাংগঠনিক বাধ্যকতা ও প্রতিশ্রুতি ও সমাজের দরিদ্র , প্রান্তিক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সম্পর্কের ফলে ইপসা তাদের প্রয়োজনীয়তা বুঝে তাদের পক্ষে কাজ করতে সক্ষম হবে। এভাবে দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে শক্তিশালী করে অবস্থা ও অবস্থানভেদে ইপসা প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদান করবে। 

ভৌগোলিক অবস্থান: 

বর্তমানে ইপসা পার্বত্য এলাকা সহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে সরাসরি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সকল উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ইপসা'র উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসারিত হবে। যদিও ইপসা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগে কাজ করছে, কিছু কিছু প্রকল্পের পলিসি এ্যাডভোকেসী এবং নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম ইপসা'র কর্ম এলাকার বাহিরে ও বিস্তৃত। 

ইপসা প্রতীকের ব্যাখ্যা: 

YPSA logoইপসা প্রতীকে ৪টি পৃথক অংশ রয়েছে। প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে একজন নারী, একজন পুরুষ এবং একজন শিশু, যেটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, লিঙ্গ সমতা এবং বিভিন্ন প্রজন্মের সহাবস্থানের চিহ্ন বহন করে। তারা একে অপরের হাত ধরে আছে যেটি সাংগঠনিক শক্তি, পারষ্পরিক সহযোগিতা, সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার সম্পর্ক, একতা এবং নেটওয়ার্কিং সর্বোপরি এটি পরিকল্পিত পরিবারের প্রতিও দিকনির্দেশনা দেয়। 

সূর্য এবং সূর্য রশ্মি দ্বারা একাত্নতা, সম্বনিত কাজ এবং ইপসা'র লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক কাঙ্খিত ফলাফলগুলোকে বুঝায়। ইপসা সৃষ্টি হয়েছিল একতা ও সম্বনিত চেষ্টার মাধ্যমে একটি সামাজিক শক্তি হিসেবে অবিচার এবং সমাজের শোষণ প্রক্রিয়া হ্রাস করার জন্য।

সূর্য্য রশ্মির পরের সাদা অংশ দ্বারা বুঝানো হয়েছে সমাজের সমস্যাগুলো পরিকল্পিত এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার দ্বারা হ্রাসপেয়েছে। 

সমাজে বর্তমান অবিচার এবং শোষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতীকের অন্ধকার অংশে। একটি অংশ চিহ্নিত করছে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট সমস্যাগুলোকে। অন্যদিকে অপর অংশ চিহ্নিত করছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নীতি ও কার্যক্রম দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাগুলো। যেগুলো দ্বারা মানুষের জীবন-জীবিকা, সমাজ মারাত্নকভাবে প্রভাবিত হয়। ইপসা'র অবস্থান হচ্ছে প্রতীকের মাঝখানে সাদা অংশে,প্রতীকের গাঢ় নীল রং দ্বারা অবস্থানের গভীরতা এবং মহিময়তাকে চিহ্নিত করে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে গভীর পর্যবেক্ষণ, অংশীদারিত্ব এবং স্থায়ীত্বের ভিত্তিতেই সংস্থার অবস্থান। 

Print